২৮ মার্চ, ২০২৫ | ১৪ চৈত্র, ১৪৩১ | ২৭ রমজান, ১৪৪৬


শিরোনাম
  ●  উখিয়া সমাজসেবা কর্মচারীর নামে বিধবা ভাতা’র টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ   ●  ‘পটভূমি পরিবর্তনের জন্য সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য’ – সরওয়ার জাহান চৌধুরী   ●  উখিয়ার বরণ্য রাজনৈতিক মৌলভী আবদুল হকের ১৯ তম মৃত্যু বার্ষিকী ২০ মার্চ   ●  হাসিঘর ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ভলান্টিয়ার সিজন-১ এর ফল প্রকাশিত   ●  মিরসরাই প্রেসক্লাবের ইফতার ও সুধী সমাবেশ   ●  বন কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ভিডিও ভাইরাল, নিরাপত্তা চেয়ে জিডি   ●  টেকনাফে ১০০০ জেলে পরিবারকে সহায়তা করছে কোস্ট ফাউন্ডেশন   ●  আল-নুর ইন্টান্যাশনাল মাদ্রাসা’র বই বিতরনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন   ●  টেকনাফে গহীন পাহাড়ে বন্যহাতির রহস্যজনক মৃত্যু!   ●  কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে ‘হাসিনার ভূত’ .নৈশভোটের মাস্টারমাইন্ড ইয়ামিন বহাল তবিয়তে

কক্সবাজারে নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তথ্য নিয়ে লুকোচুরি

153032hospital-01
কক্সবাজার জেলা সদরের সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তথ্য নিয়ে লুকোচুরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জালিয়াতির মাধ্যমে নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা গোপন করে রাখা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নেই-এ রকম দেখানোর জন্যই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর তথ্য গোপন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কোনো কোনো মাসে একজন নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তথ্যও দেখানো হত না।

এমনকি তিন বছর আগে ২০১৩ সালের পুরো বছরে মাত্র ১৪ জন নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তথ্য দেখানো হয়েছে। অথচ চলতি বছরের কেবল অক্টোবর মাসেই মারা গেছে ৩৯ জন নবজাতক। চলতি বছরের অন্যান্য মাসগুলোতেও নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২-৩৩ জন করে। তিন বছর আগেও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর হার ছিল একেবারেই কম। হাসপাতালের রেকর্ডে এরকমই মৃত্যুর তথ্য গোপন করা হয়েছে। বর্তমানে এ তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হওয়ার পরই পূর্বের গোপন তথ্যের কথা ফাঁস হয়ে পড়ে। এরপরই চারদিকে হৈ চৈ পড়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৩ সালের অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর হার ছিল একেবারেই শূন্যে। ওই বছরের ‘মাসিক মনিটরিং ট্র্যাকিং শিট’-এ উল্লেখ করা হয়েছে বছরের জানুয়ারি থেকে সাত মাসে কেবল একজন করে এবং অপর তিন মাসে ২-৩ জন করে নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যু দেখানো হয়েছে। অপরদিকে, জেলা সদর হাসপাতালের ২০১৪ সালের ‘মাসিক মনিটরিং ট্র্যাকিং শিট’-এ দেখা গেছে, পুরো বছরে মারা গেছে মাত্র ৩৮ জন নবজাতক। এরকম অস্বাভাবিক মৃত্যুর হার গোপন করার প্রবণতা ২০১৫ সালের মে মাস মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

তবে, ২০১৫ সালের জুন মাস থেকে আকস্মিক জেলা সদর হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের মৃত্যুর হার ‘মাসিক মনিটরিং ট্র্যাকিং শিট-এ বেড়ে গেছে। যেমন এ বছরের জুনে মারা গেছে ২০ জন, জুলাই মাসে ২২ জন, আগস্ট মাসে ৩১ জন, সেপ্টেম্বরে ৩৫ জন, অক্টোবরে ৩৪ জন, নভেম্বরে ৪০ জন এবং ডিসেম্বরে ৩১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ রয়েছে। অথচ একই বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতি মাসে ৩-৪ জন করে নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কথা।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, অত্যন্ত্ম পরিপাটি হাসপাতালের এই ওয়ার্ডটি। ওয়ার্ডে ২৮ দিন পর্যন্ত নবজাতকদের রাখা হয়। ওয়ার্ডে ৪০/৪২ জন করে নবজাতক রাখা যায়। এই ওয়ার্ড থেকে আগে প্রতিদিনই নবজাতকদের স্থানান্তর করা হত চট্টগ্রামের কোনো না কোনো হাসপাতালে। প্রসবের পরপরই এসব নবজাতকদের স্থানান্তর করা হত। এ সময় হাসপাতালের শিশু তথা নবজাতক ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন শিশু কনসালটেন্ট ডা. অরূপ দত্ত (বাপ্পী)।

হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের নার্স সুপর্ণা বড়ুয়া বলেন, “এখন যে সংখ্যায় নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে সেই সময়ও নবজাতক মারা যেত। কিন্তু মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হত কম। এমনকি অনেক সময় নবজাতকের অবস্থা খারাপ হলে সাথে সাথেই স্থানান্তর করা হত। ফলে নবজাতকের মৃত্যু ঘটত স্থানান্তরের পর। তাই স্থানান্তরের পর ওয়ার্ডে নবজাতকের মৃত্যু ঘটলেও সে মৃত্যুর তথ্য লেখা হত না। হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করেন কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম। তিনি ওয়ার্ডের দায়িত্ব নিয়েই যত্রতত্র নবজাতকের স্থানান্তর বন্ধ করে দিয়েছেন।”

নবজাতকদের ওয়ার্ডে রেখেই লালন পালন করা হচ্ছে। নবজাতকদের জন্য নিজ উদ্যোগে মোটা কাপড় সেলাই করে সরবরাহ করারও ব্যবস্থা করেন তিনি। এমনকি ওয়ার্ডের ব্যবহৃত নবজাতকের কাপড় ধোয়ার জন্য তিনি নিজের টাকায় ওয়ার্ডের জন্য কিনেছেন একটি ওয়াশিং মেশিনও। নবজাতকের মৃত্যুর তথ্য গোপন প্রসঙ্গে ডা. রেজাউল করিম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা জাতির সঙ্গেই প্রতারণার শামিল এবং সেইসঙ্গে মারাত্মক অপরাধও। কেননা এরকম মৃত্যুর ঘটনা বাদ গেছে জাতীয় পরিসংখ্যানের প্রকৃত তথ্য থেকে। তাই এ ঘটনা তদন্ত করা হতে পারে।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু সাঈদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “আগে নবজাতকের মৃত্যুর তথ্য গোপন করা হয়েছে। যা অত্যন্ত অপরাধজনক কাজ। যাতে হাসপাতালে রোগী মারা যায় না-এ রকম তথ্য প্রচারের জন্যই ২০১৩-২০১৪ সালের দিকে এসব জালিয়াতি করা হয়েছে। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. পু চনু বলেন, “আমি অবহিত রয়েছি হাসপাতালের এরকম জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে। তখন আসলে আমাদের করার তেমন কিছুই ছিল না। কেননা যারা সেইসময় দায়িত্বে ছিলেন তারা যেমন ইচ্ছা তেমন করেই চালিয়েছেন সব কিছু। তবে এসব জালিয়াতির দিন এখন শেষ। বর্তমানে হাসপাতাল বলেন আর মেডিক্যাল কলেজ বলেন- সবই চলছে অত্যন্ত স্বচ্ছতার মাধ্যমে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।