বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার জেলায় একদিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ইয়াবাকারবারির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক স্থান থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত দুইজনই ইয়াবাকারবারি বলে পুলিশ দাবি করেছেন। ওই সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
মহেশখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালি উপজেলার মুন্সির ডেইল এলাকায় দুই ইয়াবা কারবারির মধ্যে গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছলে ইয়াবাকারবারিরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি চালায়্। ওই সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়।
ওই সময় ইয়াবাকারবারি দুই পক্ষের গুলাগুলিতে মোস্তাক আহমদ (৩৫) নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চারটি অস্ত্র, ৭ রাউন্ড গুলি, এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ আরও জানান, নিহত মোস্তাক আহমদ একজন চিহ্নিত ইয়াবাকারবারি ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার শহরে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আস্তানা থেকে মা. হাসান (৩৫) নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত সাড়ে তিনটায় শহরের উত্তরণের উত্তর পাশের পাহাড়ি এলাকার মৃতদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
সূত্রমতে, নিহত হাসান কলাতলী আদর্শগ্রাম এলাকার মৃত খুইল্যাল মিয়ার ছেলে। মৃতদেহ উদ্ধারে সত্যতা নিশ্চিত কে ছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার।
তিনি জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দু’গ্রুপের গোলাগুলি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় একদল পুলিশ। অভিযানের খবর টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. হাসানের লাশ পাওয়া যায়।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে একটি দেশীয় বন্দুক ও দুইরাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
ওসি আরো জানান, নিহতের বুকে ও পিটে তিনটি গুলি লেগেছে। মূলত ইয়াবা ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষের সাথে গোলাগুলিতে হাসান নিহত হন তিনি।
ওসি ফরিদ উদ্দীন খন্দকার জানান, নিহতের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় দ্রুত বিচার আইনে ও ইয়াবার মামলা রয়েছে।
ওসি বলেন, এছাড়া তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামেও একটি ইয়াবা মামলা রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
নিহত হাসানের বড় ভাই শহর মুল্লুক দাবী করেন, গত মঙ্গলবার সেহেরী খাওয়ার সময় বাড়ি থেকে ‘সাদা পোশাকধারী’ কিছু লোক হাসানকে তুলে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে নিজের চিকিৎসা করতে গেলে ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পান।
প্রতিপক্ষরা হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে দাবী করেন নিহতের স্ত্রী আমেনা খাতুন।
একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিহত মো. হাসানের কক্সবাজার বাসটার্মিনাল ও আদর্শগ্রাম কেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসার বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। শ্যামলী পরিবহণের একটি সিন্ডিকেটও হাসানের সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। দুইসিন্ডিকেট মিলে শ্যামলী পরিবহনে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করে থাকে। ইয়াবা ব্যবসার টাকা দিয়ে হাসান টেকনাফ লাইনের বাস, ছারপোকা গাড়ি ও কয়েকটি টমটমের মালিক হয়েছেন। সম্প্রতি আদর্শগ্রাম এলাকায় দুইটি বাড়ির ফাউন্ডেশনও দিয়েছে। বাড়িগুলো এখন নির্মাণাধীন রয়েছে।
এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।