
রাজশাহীতে পুলিশ মেস থেকে মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সহকারী কমিশনার (এসি) সাব্বির আহমেদ সরফরাজের (৩০) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মহানগর পুলিশের অফিসার্স মেস থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সরফরাজ আরএমপির রাজপাড়া জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
সরফরাজের বাবা এম ওবায়দুল্লাহ পুলিশের সাবেক ডিআইজি ছিলেন। তবে তিনি দিনাজপুর জেলা কোটায় পুলিশে চাকরি নেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম।
এদিকে পুলিশের এই কর্মকর্তার মৃত্যুতে মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা সকালে জরুরি বৈঠক করেন।
%2029-04-17_45976_0.jpg)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শনিবার বেলা ১০টার পরও সরফরাজ ঘুম থেকে না জাগায় ডাকাডাকি করেন অন্যরা। কোনো সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তারা।
সরফরাজ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ধারণা করছে পুলিশ।
ইফতে খায়ের আলম জানান, সরফরাজের বাবা এম ওবাইদুল্লাহ ঢাকা থেকে ইউএস বাংলার বিকেল ৩টা ১০এর ফ্লাইটে রাজশাহী পৌঁছাবেন। রাজশাহীতে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে ৩টা ৫০মিনিটে। সরফরাজের বাবার অনুরোধের কারণে তার মরদেহ এখনো রুম থেকে বের করা হয়নি। তিনি এলেই তখন এসি সরফরাজের মরদেহ বের করা হবে।
আরএমপির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানায়, সরফরাজ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স মেসে আসেন। সকাল সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে কোনো এক সময় আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ অফিসার্স মেসে সকাল ১০টার পর তার অন্য সহকর্মী অফিসাররা জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো তার মরদেহ ঝুলতে দেখেন।
এরপর বিষয়টি আরএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। মৃত্যুর খবর পাবার পর সরফরাজের স্ত্রী সূচনা, খালা এবং নিকটাত্মীয়রা পুলিশ অফিসার্স মেসে আসেন। এসময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সরফরাজের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুর গ্রামে। সরফরাজ নগরীর উপশহরের একটি বাসায় স্ত্রী ও চারবছরের এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন।
৩১তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশ বিভাগে যোগ দিয়েছিলেন সরফরাজ। সরফরাজের মা ফাতেমা বেগম রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সাবেক মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। ছোট ভাই মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত। বাবা এম ওবাইদুল্লাহ পুলিশের সাবেক ডিআইজি ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে বছর দুয়েক আগে অবসরে যান।
এদিকে ঘটনাস্থলে দুপুর একটার দিকে যান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহাকারী অধ্যাপক ডা. এনামুল হক।
তিনি ঘটনাস্থল থেকে বের হবার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এটি আত্মহত্যা কী না- তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে।
এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।