কক্সবাজার ইনানী সমুদ্রসৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জনপ্রিয় একজন অভিনেতা। গায়ে সমুদ্রসৈকতের ফটোগ্রাফারের পোশাক। তাতে লেখা, ‘জেলা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত বীচ ফটোগ্রাফার’। সৈকতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য এটা নতুন কিছু না। ফটোগ্রাফার সৈকতে থাকবেন, ছবি ওঠানোর আবদার করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘটনা অস্বাভাবিক হয়ে যায় যখন ফটোগ্রাফারের নির্দিষ্ট পোশাকে দেখা গেল জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমকে। সৈকতে চলছিল সাগর জাহানের রচনা ও পরিচালনায় নাটক লাইফ ইজ বিউটিফুল-এর শুটিং। এই নাটকেই ‘বীচ ফটোগ্রাফার’ চরিত্রে অভিনয় করছেন এ অভিনেতা। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, হোটেল, ঝাউবনসহ বেশ কিছু জায়গায় চলল নাটকের শুটিং। তবে এই নাটকই শুধু নয়, মোশাররফ করিম গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অবস্থান করছেন কক্সবাজারে। কক্সবাজার ও এই অভিনেতাকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে গল্প। সেই গল্প ক্যামেরাবন্দী করছেন পরিচালকেরা।
ঈদের নাটক থেকে নিয়মিত ধারাবাহিক
গত ২২ এপ্রিল পরিচালক সাগর জাহান পুরো দল নিয়ে গিয়েছিলেন কক্সবাজার। প্রথম দুদিন ব্যস্ত ছিলেন লোকেশন ও অনুমতি পাওয়া প্রসঙ্গে। তারপরই শুরু করেছেন তিনটি নাটকের কাজ। এর মধ্যে আছে ছয় পর্বের ঈদের নাটক মাহিনের নীল তোয়ালে, লাইফ ইজ বিউটিফুল ও দূর পাহাড়। এর মধ্যে লাইফ ইজ বিউটিফুল-এ মোশাররফ করিমের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ভাবনা। মাহিনের নীল তোয়ালেতে আছেন তিশা, ফারুক আহমেদ, নাদিয়া খানম, আ খ ম হাসান।
সাগরই জাহানই নন, এই ফাঁকে কক্সবাজারে দুটি ঈদের নাটকের শুটিং করেছেন অনিমেষ আইচও। হোটেল বিলাসবহুল নাটকে অভিনয় করেছেন সাজু খাদেম, ভাবনা, বাঁধনসহ অনেকেই। এই নাটকের অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। এ ছাড়া বুবুনের বাসর রাত নাটকের সিক্যুয়েল হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে বুবুনের হানিমুন। এতে আছেন ভাবনা ও সাজু।
যমজ ৭ নামে আরও একটি জনপ্রিয় সিক্যুয়েল নাটকে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। অনিমেষ আইচের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন আজাদ কালাম। এতে মোশাররফের সহশিল্পী সাদিয়া জাহান প্রভা। সর্বশেষ মোশাররফ অংশ নিয়েছেন একটি নিয়মিত ধারাবাহিক ঝামেলা আনলিমিটেড নাটকে। এই নাটকের পরিচালক শামীম জামান বললেন, ‘আমরা একটি ধাপের শুটিং করার জন্য কক্সবাজার এসেছি। এতে লোকেশনের পরিবর্তন এবং গল্পের একটা ভিন্নতা পাওয়া যাবে।’

পরিচালক যাচ্ছেন-আসছেন, থাকছেন মোশাররফ করিম
২২ এপ্রিল কক্সবাজার গিয়েছিলেন সাগর জাহান। ২ মে ফিরে এসেছেন তিনি। তাঁর মতো করে একেক পরিচালক কক্সবাজার যাচ্ছেন, শুটিং করছেন, ফিরেও আসছেন। থেকে যাচ্ছেন শুধু মোশাররফ করিম। ব্যাপারটি ধরিয়ে দিতেই মোশাররফ করিম হেসে বললেন, ‘ঘটনা এমনই। আমার কাছেও ব্যাপারটি বেশ মজার মনে হচ্ছে। তবে এখানেও শুটিং করা বেশ ঝামেলার। প্রচুর লোকজন চারদিকে। এখন ভ্রমণের মৌসুম না, তবুও প্রচুর মানুষ বেড়াতে আসছে কক্সবাজার। মজার ব্যাপার হলো, কক্সবাজার আগের চেয়ে বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়েছে।’
২ মে মোশাররফ করিমের স্ত্রী রোবেনা রেজা জুইও চলে গেছেন কক্সবাজার। অংশ নিয়েছেন ঝামেলা আনলিমিটেড নাটকে। জানালেন, এই নাটকের ১৩ পর্বের শুটিং শেষে ৫ মে ঢাকা ফিরবেন মোশাররফ করিম দম্পতি।
কেন কক্সবাজার?
শুটিংয়ের জন্য কক্সবাজার কেন? জানতে চাওয়া হয়েছিল নির্মাতা সাগর জাহানের কাছে। শুরুতেই আনলেন ফটোগ্রাফির কথা। কক্সবাজারে বড় প্রাপ্তি বিশাল সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য। ক্যামেরা বা নাটকে যা সত্যিকার অর্থেই সুন্দর। ঢাকার উত্তরা পুবাইলের নাটক দেখে দেখে দর্শক যখন ক্লান্ত, তখন চোখের খানিটা আরাম এনে দিতে এই চেষ্টা। অবশ্য নির্মাতা অনিমেষ আইচ মনে করেন, গল্পই টেনে নিয়ে যায় কক্সবাজার। এ কারণে যেতে হয়। তবে একাধিক নাটক করার কারণ হলো, এক নাটক দিয়ে খরচ পোষানো কঠিন হয়ে যায়। তাই প্রত্যেক নির্মাতাই চান, একাধিক নাটক করে খরচটা পুষিয়ে নিতে। এতে অভিনয়শিল্পী যেমন ‘কমন’ পড়ে, তেমনি লোকেশনেরও। তবে একেক চ্যানেলে প্রচারিত হওয়ায় এটা আর কমন থাকে না।

সমস্যার নাম অনুমতি ও সেলফি!
বিলাসবহুল হোটেল, যাতায়াত সুবিধা, সুন্দর লোকেশন থাকলেও আছে কিছু অসুবিধা। আশনা হাবিব ভাবনা বললেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম সেলফি। এত মানুষ সেলফি তুলতে আসে যে বলে সংখ্যায় বলা কঠিন। শুধু তা-ই নয়, সেলফি তোলার জন্য তৃতীয় পক্ষের তদবির নিয়েও আসে অনেকে। আর লোকসমাগম হলে শুটিং কঠিন হয়ে যায়।’
তবে সব পরিচালকই বললেন ‘অনুমতি’ নামক আরও একটি সমস্যার কথা। কিছুদিন আগেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে শুটিং করতে অনুমতির প্রয়োজন হতো না। কিন্তু এখন নির্দিষ্ট ফি দিয়ে লিখিত অনুমতি নিতে হয়। সেটাও সময়সাপেক্ষ। এ জন্য ঝক্কিও পোহাতে হয়। নির্মাতারা মনে করেন, অনুমতির ব্যাপারটি দ্রুত হলে কাজ করায় সুবিধা হয়।
এত অনুমতি, এত ঝক্কি আর সুন্দর লোকেশনের নাটক আসছে টিভি পর্দায়, কেমন উপভোগ করেন দর্শক, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।