বার্তা পরিবেশক : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ এর ৫৭ (২) ধারার মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন দৈনিক বাঁকখালীর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক সাইফুল ইসলাম এর আদালত সাইবার মামলার চার্জ হতে দৈনিক বাঁকখালীর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরীকে অব্যাহতি প্রদান করেন। এর আগে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়াই সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান করে। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি এড. আবদুস সালাম, সিনিয়র আইনজীবি এড. শেখ ফরিদ ও জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি এড. মজুমদার।
মামলার এজাহারে বাদী কক্সবাজারের ডাঃ আবদুস সালাম তার বিরুদ্ধে দৈনিক বাঁকখালী পত্রিকায় মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে মর্মে ১লা অক্টোবর ২০১৬ইং তারিখে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ৫ অক্টোবর পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ নিয়ে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দৈনিক বাঁকখালীতে প্রকাশিত হয়। ওইদিনই সন্ধ্যা ৬টায় কক্সবাজার সদর থানার কয়েকজন কর্মকর্তা ডাঃ আবদুস সালামের মামলার আসামী হিসেবে দৈনিক বাঁকখালী কার্যালয় হতে তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাঁকে গ্রেফতার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় কর্মরত সাংবাদিক, পেশাজীবি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ক্ষোভের মুখে ম্যাজিষ্ট্রেটের সম্মুখে হাজির না করেই সদর থানা পুলিশ তাঁকে দ্রুত জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
দৈনিক বাঁকখালী সম্পাদক গ্রেফতারের প্রতিবাদে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও নানান পেশার মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচীসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। কক্সবাজারের প্রায় সকল ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে বেকায়দায় পড়ে পুলিশ প্রশাসন।
এর একে একে নিন্দা জানান- ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, সম্পাদক পরিষদ, কক্সবাজার সম্পাদক পরিষদ, সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি, কক্সবাজার রিপোটার্স ইউনিটি, ওকাবসহ বিভিন্ন সমিতি। নিন্দা জানান রামু, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, আলীকদম সহ বেশ কয়েকটি প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। টানা ৩৫ দিন বিনাদোষে জেল খাটেন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। কক্সবাজারের একটি বিশেষ মহল তাঁর বিরুদ্ধে আরো কিছু ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও তা ভন্ডুল হয়ে যায়। ৩৫ দিন জেল খাটার পরে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল তাঁকে স্থায়ী জামিন প্রদান করেন। ২০১৬ সালে দায়েরকৃত ওই মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল সিআইডি’র ঢাকাস্থ ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরি আসামীর বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়বস্তুর উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট পত্র প্রেরণ করেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, দৈনিক বাঁকখালী সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলাটি ভিত্তিহীন ও অচল ছিল। তথাপিও তদন্তকারী কর্মকর্তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু সাক্ষী সৃজন করে মামলার চার্জশীট প্রদান করে। এই মামলাটি থেকে অব্যাহতি পেয়ে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন দৈনিক বাঁকখালীর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মহামান্য আদালতের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে কারো বিরুদ্ধে তাঁর কোন ক্ষোভ নেই। সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তিনি প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করেন না।
এদিকে তাঁর অব্যাহতির খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড.সিরাজুল মোস্তফা। আরো সন্তোষ প্রকাশ করেছেন- কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এড. আহমদ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম (বিএ অনার্স এমএ), মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ইব্রাহিম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল হক মুকুল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ আনসারী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ হোসেন তানিমসহ অনেক সামাজিক সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ।
এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।